Home » আমার বরগুনা » বরগুনা সদর » বরগুনার সেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

বরগুনার সেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

বরগুনা অনলাইন : তরমুজ চাষিদের কাছ থেকে যুবলীগ নেতার চাঁদা আদায়, শাসালেন অতিরিক্ত এসপি শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সেই চাঁদাবাজ যুবলীগ নেতা আ. হালিমকে (৪২) যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে তার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বরগুনার শত শত তরমুজ চাষি ও পাইকাররা।

বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের শত শত তরমুজ চাষিসহ দূর-দূরান্ত থেকে বড় বড় ট্রাক নিয়ে আসা পাইকারদের জিম্মি করে প্রতিবছর এই তরমুজ মৌসুমে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আ. হালিম ও তার সহযোগীরা লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছিলো বলে কৃষক ও পাইকারদের অভিযোগ।
অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতা বালিয়াতলী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি একই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ সেলিমের আপন ছোট ভাই। বর্তমানে একটি ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আ. হালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

আরো পড়ুন :  করোনাকালে দুমুঠো খাবার জোটে না এই দুই প্রতিবন্ধীর

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, সাংবাদিকরা হালিমের অপকর্ম লইয়া রিপোর্ট করায় পুলিশের এডিশনাল এসপি শাহজাহান হোসেন স্যার আইয়া হালিমরে এমন হুশিয়ার কইরা দিয়া গ্যাছে যে হ্যারপর আর হালিমের কোনো দেহা নাই। হালিমের কোনো সিন্ডিকেটও এহানে আর আয় না।

আমরা এহন শান্তিতে আছি।
জানা যায়, স্থানীয় পাইকার কিংবা ঢাকা ও খুলনা যে যেখান থেকেই আসুক না কেন যুবলীগ নেতা হালিমকে চাঁদা না দিয়ে কেউ এখানে তরমুজ বেচা কেনা করতে পারেন না। এ ছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে তরমুজ প্রতি পাঁচ টাকা এবং প্রতিজন পাইকারদের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা সবমিলিয়ে এই এক মৌসুমে যুবলীগ নেতা হালিমের হাতে আসে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা।
সম্প্রতি এসব অভিযোগ পেয়ে গত শুক্রবার এমবালিয়াতলী ইউনিয়নের বানাই গ্রামে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আ. হালিমের সিন্ডিকেট ভেঙে দেন জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) শাহজাহান হোসেন। এ সময় ওই যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগীদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ার করে দেন মো. শাহজাহান হোসেন।
বরগুনা জেলা যুবলীগ কখনওই কোনো অন্যায়কে সাপোর্ট করে না উল্লেখ করে বরগুনা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই আ. হালিমকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।