Home » আমার বরগুনা » আমতলী » ঝালমুড়ি বিক্রেতা এক মুক্তিযোদ্ধার মানবেতর জীবন
মুক্তিযোদ্ধা আ, আজিজ

ঝালমুড়ি বিক্রেতা এক মুক্তিযোদ্ধার মানবেতর জীবন

মোঃ মিরাজ খান, বরগুনা : বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর টিয়াখালী গ্ৰামের আ. আজিজ হাওলাদার (৮০)। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও এখন পর্যন্ত তার নাম লেখাতে পারেননি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। বর্তমানে জীবন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বহুলোক মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়েছেন। কিন্তু আজিজ হাওলাদার এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের কার্ড তো দুরে থাক তালিকায়ও তার নাম লেখাতে পারেননি। একাধিকবার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ সংসদ সদস্যের কাছে মুক্তিযুদ্ধের এপ্লিকেশন ফরম জমা দিয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা আসেনি। ঝালমুড়ি বিক্রি করে, ক্যান্সারের পড়ে থাকা স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেঁদে কেঁদে দাবি জানিয়েছেন- মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নামটি যেন আসে।

আরো পড়ুন :  আমতলীতে নিজে উপস্থিত থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি ইউএনওর

স্থানীয় শাহজাহান তালুকদার (৭০), ফূলগাজী (৭৬),মোতাহার তালুকদার (৮৫), আজাহার তালুকদার (৭১) ও আজিজ প্যাদা (৭৫) বলেন, আমাদের জানামতে আ: আজিজ একজন সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। গরিব বিধায় তার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ওঠেনি। একাধিকবার আজিজ হাওলাদারের নাম নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো টাকা খরচ করতে পারেননি -তাই মনে হয় মুক্তিযোদ্ধার খাতায় তার নাম ওঠেনি।

তারা আরও বলেন, আজিজ হাওলাদার দেশের জন্যে বিভিন্ন সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও তিনি মুক্তিযোদ্ধার কার্ড পাননি। অথচ যারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি তারাও অনেকে আজ মুক্তিযোদ্ধা। টাকা দিয়ে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন কিন্তু আজিজ হাওলাদরের মতো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা টাকা খরচ করতে পারেনি তাই তারা মুক্তিযোদ্ধা কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

একই এলাকার শিক্ষক মো. ফিরোজ (৪০) বলেন, জন্মের পর থেকেই শুনে আসছি, আ. আজিজ ছিলেন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তার কাছ থেকে অনেক কিছুই আমি শিখেছি এবং জানতে পেরেছি। কিভাবে যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন, কোন কোন ক্যাম্পে তিনি ছিলেন।
তিনি নিঃস্বার্থ ও নিরলসভাবে দেশের জন্যে যুদ্ধ করেছিলেন।

আরো পড়ুন :  বরগুনায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকার সংবাদ সম্মেলন

তিনি আরও বলেন,আজিজ হাওলাদার ও তার পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। পরিবারে তার একমাত্র মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। বর্তমানে তার স্ত্রী ক্যান্সারে ভুগছেন। আগে ঝালমুড়ি বিক্রি করে তার সংসার চালাতেন। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে তাও এখন বন্ধ।
এক কথায় মরার উপরে খরার ঘা।

এবিষয়ে আঃ আজিজ হাওলাদার বলেন, আমি দেশের জন্যে যুদ্ধ করেছি কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়। যুদ্ধ করেছিলাম দেশ স্বাধীন করার জন্যে। বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া হাইস্কুল মাঠের ক্যাম্পে কমান্ডার হাতেমআলী মিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এরপরে কমান্ডার বজলুর রশিদের নেতৃত্বে চান্দখালী হাইস্কুল মাঠের ক্যাম্পে অনেকদিন যুদ্ধ করি। পরে পর্যায়ক্রমে অনেক ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অংশগ্রহণ করি।

আমি শেখ মুজিবরের আদর্শকে বুকে লালন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। যেদিন শুনি আমার নেতা শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত তার জন্যে একটি করে রোজা রাখি।

আরো পড়ুন :  করোনা উপসর্গ নিয়ে আমতলীতে সাব-ইন্সপেক্টরের মৃত্যু

তিনি আরও বলেন, আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, দেশেও ছিল না- তারা টাকা দিয়ে তালিকায় নাম লিখে এখন মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে। আমি এদের নিন্দা জানাই।