Home » আমার বরগুনা » বরগুনা সদর » বরগুনার কৃতি সন্তান অব: কর্নেল আব্দুল খালেক আর নেই
কর্নেল আব্দুল খালেক

বরগুনার কৃতি সন্তান অব: কর্নেল আব্দুল খালেক আর নেই

মো: খলিলুর রহমান : বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামের কৃতি সন্তান, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কর্নেল (অবঃ) আবদুল খালেক ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ১৫ অক্টোবর বিকাল সাড়ে তিনটায় রবের ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মরহুমের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। তার শোকাতুর পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দিন। আমিন!

১৯৮০ সালে প্রাইমারিতে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পরই এই সদা-ট্যালেন্ট লোকটির নাম শুনতে পাই। কাকতলীয়ভাবে আমি যে স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করি তিনিও সেই স্কুলেরই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পেশাগত জীবনে একজন চৌকষ সেনা অফিসার ছিলেন। অত্যন্ত সদালাপী ও পরোপকারী ব্যক্তিটি আমাদের ইউনিয়নের অনেক বেকার তরুণকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়ে বহু অসহায় পরিবারে বাবা-মার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। নিজ ইউনিয়ন তথা বরগুনায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিটি বরগুনা সদর উপজেলায় প্রচুর সমর্থন নিয়ে ২০১০ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

আরো পড়ুন :  চাঁদাবাজি: যুবলীগ নেতাকে পুলিশের শাসানোর ভিডিও ভাইরাল

শিক্ষাজীবনের শুরুর দিকে বাবার মুখে তার প্রতিভার অনেক গল্প শুনেছি। তার মতো মেধাবী হওয়ার জন্য প্রায়ই বাবা আমাকে উপদেশ দিতেন। দানশীল এই ব্যক্তিটি চাকরিজীবনে ছুটিতে গ্রামের বাড়ি এলে শ্রমিক লেভেলের গরীব মানুষ ফুলঝুড়ি বাজারের লঞ্চঘাটে গিয়ে তার হাত থেকে ব্যাগ কাঁধে নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতেন। কারণ তিনি গরীবকে প্রচুর দান-সদকা করতেন। আমাদের এলাকার বহু মানুষের দোয়া এই নি:স্বার্থ পরোপকারী ব্যক্তিটি পাবেন, এটা নিসন্দেহে বলা যায়।

আমার কৈশোর জীবনে পা দেয়ার আগেই তিনি চাকরি-জীবনে প্রবেশ করেন। জীবনের বাঁকে লেখাপাড়ার নানা ব্যস্ততায় এই দরাজ দিলসম্পন্ন লোকটির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি। তবে অনুসরণীয় এই ব্যক্তিটিকে একনজর দেখার জন্য আমার মনে অনেক ব্যাকুলতা ছিল।
চাকরি-জীবনে ইসলামী ব্যাংকের কোনো এক শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তা থাকাকালীন আমার সাথে তার পরিচয় হয়। তিনি আপনি সম্বোধন করে কথা বলায় আমি ভীষন লজ্জাবোধ করি। পরিচয় দেয়ার পরে অবাক হয়ে বললেন, তুমি অমুকের পোলা এত্ত বড় হয়ে গেছ। তারপরে যতবার তার কাছে আমি গিয়েছি ততবারই সম্মান রেখে আপনি সম্বোধন করতেন আর আমি লজ্জায় কুকড়ে যেতাম।

আরো পড়ুন :  দুলাল-তাজেনুরের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছালেন ইউএনও

আমি ২০১৬ সালে হজ্জ শেষে মদীনাতে মসজিদে নববীর চত্বরে বসে রাসুলের রওজার দিকে প্রশান্ত চিত্তে হৃদয়ের সবটুকু ভালবাসা উজার করে এক পলকে ধ্যানমগ্ন হয়ে তাকিয়ে আছি। রাসুল সা: এর সেই সোনালী যুগের আলো ঝলমলে দিনগুলোর ছবি চোখের সামনে এনে বোধের সীমাবদ্ধতা দিয়ে অনুভবের চেষ্টা করছি। হঠাৎ পেছন থেকে কর্নেল চাচা আব্দুল খালেক আরেকজন হাজীসহ এসে বললেন- ম্যানেজার সাহেব নাকি? বিদেশ বিঁভুয়ে পরিচিত কন্ঠস্বরে ভাবনার ছেদ পড়ল। বসা থেকে তড়িঘড়ি উঠে তাকিয়ে বিনয়ের সাথে সালাম দিলাম। কুশল বিনিময় করলাম। অনেকক্ষণ সময় দিয়ে তার মোবাইলে অনেক ছবি তুলে দিলাম। এক সাথে দুজন মিলে ছবি তুললাম। সেই স্মৃতি সত্যিই মধুময় ছিল।
তিনি আমার একজন চমৎকার ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিলেন। আমার লেখায় উৎসাহ দিতেন। তিনি কবিতা, ছোট গল্প লিখতেন। শেষের দিকে বিএম কলেজ নিয়ে চমৎকার স্মৃতিচারণমূলক লেখা প্রকাশ করছেন।

আরো পড়ুন :  বরগুনা হাসপাতালে কোনো করোনা রোগী নেই

বরগুনা জেলার ইংরেজি ডিকশনারী নামে খ্যাত গাজী আলী আহমেদ স্যার তার একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আমার স্টুডেন্ট লাইফে গাজী আলী আহমেদ স্যার আমারো প্রিয় স্যার ও ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। একথা শুনে খালেক চাচা আমার প্রশংসা করছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আমার এলাকায় এমন মানবদরদী নামকরা ব্যক্তির বিয়োগান্তে বহু মানুষ চোখের জলে বুক ভাসাবে।
খালেক চাচা! আপনি ওপাড়ে বিশ্ব নিয়ন্তার রহমতের চাদরের নিচে জায়গা পান, মহান মা’বুদের দরবারে কায়মনোবাক্যে সেই দোয়া করছি।

লেখক :
এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড ম্যানেজার
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড
ঝালকাঠি শাখা
১৫ অক্টোবর, ২০২০