Home » আমার বরগুনা » বরগুনা সদর » ডিবি কার্যালয়ে ডেকে মা-বাবাকে মেরে হাসপাতালে পাঠালো মেয়ে

ডিবি কার্যালয়ে ডেকে মা-বাবাকে মেরে হাসপাতালে পাঠালো মেয়ে

গোলাম কিবরিয়া, বার্তা সম্পাদক: পেনশনের টাকার লোভে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে ডেকে মা-বাবাকে শারিরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে মেয়ে ও তার জামাতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ডিবি পুলিশের দুজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এসময় আহত অবস্থায় উভয়কে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন,বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের পাকুরগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সোবাহান ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম।

আবদুস সোবাহানের ছেলে জসীম উদ্দীন জানান, তার বাবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালের জুন মাসে চাকরির মেয়াদ শেষে তিনি অবসরে যান। ২০১৭ সালে পেনশনের টাকা উত্তোলন করে ডাকবিভাগে ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখেন।
পেনশনের টাকা পাওয়ার পর থেকেই বোন সীমা আক্তার এক লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বাবাকে হয়রানি করতে শুরু করেন। বাবার কাছে টাকা পাবেন মর্মে গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে বাবা সোবাহান, মা জাহানারা বেগম ও ভাই জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ডিবি পুলিশ গিয়ে সোবাহানকে তার শ্বশুড়বাড়ি থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

আরো পড়ুন :  বাল্যবিয়ে : বাবা-মায়ের নামে কিশোরীর মামলা

স্থানীয় আইনজীবী শফিকুল ইসলাম মজিদ গিয়ে সীমাকে চার শতাংশ জমির মূল্যবাবদ ৬০হাজার টাকা দেয়ার শর্তে ডিবি কার্যালয় থেকে আবদুস সোবাহানকে ছাড়িয়ে আনেন। ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টাকা সীমাকে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সীমা ৬০ হাজার পরিবর্তে এক লাখ টাকা দাবি করেন। নির্ধারিত তারিখে ৬০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও সীমা এক লাখ টাকাই দাবি করেন। এ নিয়ে বাবা ও মেয়ের মধ্যে ফের বিরোধ শুরু হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে ডিবির এএসআই মিজানুর রহমান ফের আবদুস সোবাহানকে ধরতে তার বাড়িতে যান।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় আইনজীবী আবদুল মজিদের চেম্বারে দেখা করতে যান সোবাহান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ডিবির এএসআই মিজান বরগুনা স্টেডিয়াম এলাকা থেকে সোবাহানকে আটক করেন।

সোবাহান বলেন, ডিবির ওই অফিসার জামাকাপড় খোল শালা, তোরে অফিসে ডেকেছি যাওনি কেন। তোরে টানায়ে পিটানো হবে, চল অফিসে আমার সঙ্গে এমন ভাষা ব্যবহার করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ফের আইনজীবী মজিদ গিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠকের সময় ঠিক করে আমাকে ছাড়িয়ে আনেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে উভয় পক্ষ সমঝোতার জন্য বসেন। এসময় ডিবির এসআই আশরাফ, শুশীল ও এএসআই মিজানসহ ডিবির চার-পাঁচজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সীমা এক লাখ টাকার দাবিতে অনড় থাকায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি।

আরো পড়ুন :  বরগুনা হাসপাতালে কোনো করোনা রোগী নেই

এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরেই বাবা সোবাহান ও মা জাহানারা বেগমকে মারধর শুরু করেন সীমা ও তার স্বামী হাফিজুর রহমান। এসময় জাহানারা বেগমের কাছে থাকা ৬০ হাজার টাকার ব্যাগ কেড়ে নেন। খবর পেয়ে সোবাহানের ছেলে মো. সাহাবুদ্দিন ও জসীম উদ্দীন ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মা-বাবাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এসময় সীমা ও তার স্বামীসহ অন্যরা ডিবি কার্যালয়ের ভেতর অবস্থান করছিলেন, আইনজীবী আবদুল মজিদও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী আবদুল মজিদ বলেন, ঘটনাটি ঘটে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে। আমরা সীমা ও তার স্বামীর হাত থেকে সোবাহান ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগমকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। অথচ, ডিবি পুলিশের সদস্যরা তখন দাড়িয়ে ছিলেন।’

সোবাহানের জ্যেষ্ঠ ছেলে সাহাবুদ্দিন বলেন, ডিবির এএসআই মিজান আমার বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি গত দুই দিনে অন্তত একশ’বার টাকা নিয়ে দেখা করতে বলেন। আমরা টাকা নেয়া দেয়ার কারণে এএসআই মিজান আমাদের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে বাবাকে হেনস্তা করেছেন।

আরো পড়ুন :  ঢাকা থেকে সাইকেলে বরগুনা যাওয়া সেই যুবক সুস্থ

আবদুস সোবাহানের মুঠোফোনে ডিবির এএসআই মিজানের একাধিবার কল করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সীমা আক্তারের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ডিবির এএসআই মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সীমার অভিযোগটি দেখার জন্য এসআই আশ্রাফ স্যারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমতলীতে থাকায় ওসি স্যার আবদুস সোবাহানকে ডেকে আনার দায়িত্ব আমাকে দিয়ে ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, বুধবার দুপুরে আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে পাইনি। পরে ওনার স্বজনদেরকে অনুরোধ করে আসি যাতে উনি বৃহস্পতিবার ডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে আমি স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত করার জন্য তাকে ডেকে নিয়ে এসেছিলাম।

হেনস্থা বা গালাগালের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি তাকে উপস্থিত করার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেছিলাম।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, কার্যালয়ের ভেতরে নয়, বাইরে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়ের সামান্য বশচা হয়েছে। এসএসআই মিজানের বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘মিজান মূলত বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত করতে আবদুস সোবাহানকে ডেকে এনেছিল। হেনস্থার কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।