Home » দর্শনীয় স্থান » সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত

সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত

বঙ্গোপসাগরের নোনা পানির ঢেউ সাদা ফেনা তুলে আছড়ে পড়ছে তীরে। সকালের সূর্যরশ্মি ঢেউয়ের ফেনায় পড়ে ঝকমক করছে। পাখির দল উড়ে যাচ্ছে এদিক সেদিক। বড় বড় ট্রলার নিয়ে জেলেরা ছুটছে গভীর সাগরের দিকে। এমন মন ভোলানো অনেক দৃশ্য চোখে পড়বে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে প্রাকৃতিকভাবে জেগে ওঠা সোনাকাটা সমুদ্র সৈকতে।

sonakata-600

বরগুনার তালতলী থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে ফকিরহাট বাজার। বাজারের পাশেই গহিন বন। ছোট্ট একটি খাল মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বনটিকে। ভূখণ্ডটি স্থানীয়দের কাছে ‘ফাতরার বন’ হিসেবে পরিচিত। তবে বন বিভাগের খাতায় এটি ‘টেংরাগিরি’ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। আয়তন ৯,৯৭৫.০৭ একর। সোনাকাটা ইউনিয়নের অন্তর্গত এ দ্বীপটি এখন ‘সোনাকাটা বন’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

বনের পূর্বে কুয়াকাটা, পশ্চিমে সুন্দরবন আর হরিণবাড়িয়া, উত্তরে বিশাল রাখাইন পল্লী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এ বনের পার্শ্ববর্তী সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুটিই উপভোগ করা যায়। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া এ বনে আছে নানা জাতের গাছপালা। আছে বিভিন্ন ধরনের পশুপাখির বিচরণ। ফাতরার বনে ইকোপার্ক তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ছোট একটি ডাকবাংলো। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ট্রলারে সোনাকাটা যেতে মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাগে।

আরো পড়ুন :  অল্প সময়ে জনপ্রিয় সোনাকাটা ইকোপার্ক, সংস্কারের অভাবে ভোগান্তি

সোনাকাটা বনের মধ্যে রয়েছে ছোট ছোট খাল। ট্রলার নিয়ে এই খালে ভ্রমণ আর চরের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার মজাই আলাদা। সোনাকাটার আশপাশে আরো বেশ কয়েকটি ভ্রমণ স্পট রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে গইয়ামতলা ও আশারচর উল্লেখযোগ্য। সমুদ্র ভ্রমণ, গভীর জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর অবারিত সুযোগ রয়েছে সেখানে।

অসংখ্য বানর, শূকর, বনমোরগ, মদনটাক, কাঠবিড়ালি, মেছোবাঘ, লাল কাঁকড়া, বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি আর সাপের অবাধ বিচরণ রয়েছে সোনাকাটা বনে। সেখানে ছোট-বড় ১২টি কিল্লা ও সাতটি মিঠা পানির পুকুর রয়েছে।

সোনাকাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে পর্যটকদের চলাচলের জন্য দুই কিলোমিটারের বেশি সিসি রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া হরিণ ও বাঘের বেষ্টনী এবং কুমির প্রজননকেন্দ্রসহ বন্য প্রাণীর আশ্রয়স্থল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।

আরো পড়ুন :  বেড়েরধন নদীর সূর্যোদয়ের নৈসর্গিক দৃশ্য মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে

পার্শ্ববর্তী পযর্টন স্পট

আশার চর
সোনাকাটার পাশেই আশার চরের অবস্থান। অসংখ্য মৎস্যজীবীর বসবাস এই চরে। আবার শীতের মৌসুমে পর্যটকরাও সেখানে যান। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, গভীর অরণ্য, বিশাল শুঁটকিপল্লী রয়েছে আশার চরে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যাওয়া মানুষ শুঁটকি উৎপাদনের জন্য চরটিতে ঘর বাঁধে। বছরে সাত থেকে আট মাস থাকে শুঁটকি উৎপাদনের ব্যস্ততা।

তালতলী রাখাইন পল্লী
আশার চরের কাছেই রয়েছে তালতলীর বিশাল রাখাইনপল্লী। বঙ্গোপসাগরের তীরে এ পল্লীতে কুপিবাতি জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁতে কাপড় বোনার কাজ। তাঁতশিল্প ছাড়াও রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দিরও অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হতে পারে।

যেভাবে যেতে হবে
ঢাকা হতে সড়ক ও নৌ উভয় পথেই বরগুনা যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন সকাল এবং রাতে উভয় সময় ছেড়ে যায়। আপনি চাইলে নদী পথেও বরগুনা যেতে পারেন। ঢাকার সদরঘাট নদীবন্দর থেকে বরগুনা যায় লঞ্চ। লঞ্চই আরামদায়ক বাহন।
বরগুনা হতে তালতলীর দুরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। গাড়ী কিংবা নৌকা করে যাওয়া যায় তালতলী। অত:পর পায়ে হেটে কিংবা নৌকায় করে সোনাকাটা বনে যেতে হয়।